শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

ইলন মাস্কের কষ্ট

মুহাম্মদ আবুল হুসাইন:

২০২২ সাল। আমেরিকায় তখনও করোনা মহামরির প্রকোপ একেবারে মিলিয়ে যায়নি। দেশটির অন্যান্য পরিবারের মত বিপর্যস্ত ইলন মাস্ক পরিবারও। আগের বছর ২০২১ সালের ২৬শে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে করোনা  মারা যায় বিশ লাখেরও বেশি মানুষ। করোনার ভয়াবহ তাণ্ডবে তটস্থ ছিল সারা বিশ্বের মানুষ। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলাসহ মাস্কের বেশ কয়েকটি কোম্পানি ব্যাপক লোকসানের কবলে পড়ে। তবে মাস্কের জন্য যেন আরও বড় ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছিল।

জেভিয়ার মাস্ক। বয়স মাত্র ১৮। ইলন মাস্কের প্রাণাধিক প্রিয় সন্তান। সেই আক্রান্ত হয়েছে। নাহ। করোনা ভাইরাসে ন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও স্পেস এক্স প্রধান এতটা হতাশ হতেন না। তার প্রাণপ্রিয় সন্তান আরও মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত। এর একটি বড় লক্ষণ বা উপসর্গ হল প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ। সারাক্ষণ শুধু ভাল্লাগেনা, ভাল্লাগেনা। মেজাজ খিটখিটে থাকে। আব্বুকেও আর সহ্য করতে পারে না। বন্ধুদেরকেও এড়িয়ে চলে। অথচ জেভিয়ার এমন ছিল না। অথচ জেভিয়ার এমন ছিল না। প্রচণ্ড প্রাণ প্রাচুর্যে উচ্ছল, হাসি-খুশি ও বন্ধু বৎসল ছিল সে। আব্বুর সাথে খুব ভাল বন্ডিং ছিল তার। আব্বু ছিল তার বেস্ট ফ্রেন্ড,  আর সে ছিল তার আব্বুর সবচেয়ে প্রিয় ছেলে।

বছর দুয়েক আগে তার মনের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রথমত  আব্বু-আম্মুর বিচ্ছেদ, আর দ্বিতীয়ত করোনার লকডাউন। তখন রাতদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকতো। ফ্রী ফায়ার গেম, হরর, ভলগার ও ভায়োলেন্স সিনেমা, মেয়েদের সাথে দিনরাত আড্ডা, উচ্চস্বরে গান-বাজনা, চিৎকার  - এসব নিয়েই পড়ে থাকত। কিন্ত এখন এসব কিছুই তার ভাল লাগে না। এমনকি স্বাভাবিক, অকৃত্রিম কোন কিছুই আর তার ভাল লাগে না। এখন এমনকি মানুষ হয়ে থাকতে, ছেলে হয়ে থসকতেও তার ভাল লাগে না। এ সবই ‘ওক মাইন্ড ভাইরাসের লক্ষণ। হ্যা, জেভিয়ার মাস্ক ভয়াবহ ওক মাইন্ড ভাইরাসেই আক্রান্ত হয়েছে।

আসলে ওক মাইন্ড হলো একটি আন্দোলন যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘জাগ্রত মন’ যা দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে লিঙ্গান্তর প্রবণতা জাগ্রত করছে। ইলন মাস্ক একে করোনার মত এক ভয়াবহ ভাইরাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ওক মাইন্ড ভাইরাস প্রগশীলতার নামে তার শিকারদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে।

প্রাণাধিকপ্রিয় ছেলে জেভিয়ার মাস্ক এই মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় বাবা ইলন মাস্ক মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত। কারণ জেভিয়ার জেন্ডার রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য তাকে অনুমোদন দিতে চাপ দিচ্ছে। সে বলছে অনুমোদন না দিলে, এ সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করলে সে আত্মহত্যা করবে। বাধ্য হয়ে তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্ত এই রূপান্তরকে তিনি মেনে নেননি।

ইলন মাস্ক মনে করেন ‘woke mind virus’ তার ছেলে জেভিয়ারকে কেড়ে নিয়েছে, তাকে হত্যা করেছে। কেনানা, মেয়েতে রূপান্তরিত হয়ে জেভিয়ান মাস্ক ভিভিয়ান জেন্না উইলসন নামে নতুন নাম ধারণ করে এবং তাকে ছেড়ে একেবারে চলে গেছে। সে ঘোষণা করেছে তার বায়োলজিক্যাল পিতা ইলন মাস্কের সাথে তার আর কোন সম্পর্ক নেই।


এ আঘাত তাকে করোনা বিপর্যয়ের চেয়েও শত গুণ বেশি বিপর্যয়ের মুখে নিক্ষেপ করেছিল। করোনার আঘাত তাকে এতটা কষ্ট দিতে পারেনি যতটা কষ্ট তার নিজের ছেলে তাকে দিয়েছে।

এজন্য তিনি চিকিৎসকদেরও দুষছেন। ইলন মনে করেন, তিনি মূলত "প্রতারিত" হয়েছেন। তার ছেলের স্বাভাবিক পুরুষ হরমোন প্রবাহ বন্ধ করে কৃত্রিমভাবে মেয়েলি হরমোন প্রয়োগ করে তাকে মেয়েতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। তারা বলছে জেভিয়ার মাস্ক এখন একটি মৃত নাম। জেভিয়ার মাস্ক নামে এখন আর কেউ নেই। রূপান্তরিত মেয়েটি ভিভিয়ান জেন্না উইলসন নাম ধারণ করেছে। তাকে নিজের সন্তান ভাবতে পারছেন না তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ